সুনামগঞ্জ , রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ , ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাউসবোটে নেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যটকদের উদ্বেগ বাংলাবাজার ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশ সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের আড্ডা অনুষ্ঠিত ঢাকায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ অনলাইন জুয়ার ‘হটস্পট’ জাউয়াবাজার প্রতিপক্ষের সুলফির আঘাতে নিহত ১ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ তাহিরপুরে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ৬ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি রিভলবার জব্দ ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলে কবে থেকে কার্যকর হবে? একটি মহল চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে : মির্জা ফখরুল বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রায় চূড়ান্ত ২,২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র বরাদ্দের অভাবে বন্ধ নির্মাণকাজ ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি, গোপনে চলছে প্রার্থী যাচাই সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি ইকবাল কাগজী

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

  • আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান হার আজ একটি ভয়াবহ মানবিক ও সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দৈনন্দিন যাতায়াত যেন এখন মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চলার নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই সুনামগঞ্জ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৪ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে কারণগুলোর তালিকা দীর্ঘ এবং পুরনো। অপ্রশস্ত ও অনুন্নত সড়ক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন উপেক্ষা - সবকিছুই যেন একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই অবস্থায়ও আমরা দেখছি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়সারা কিছু অভিযান, সীমিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আর পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ঠেলাঠেলি - দায়টা কে নেবে, সেই উত্তরহীন বিতর্ক। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জবাসীর হতাশা আরও গভীর হয়েছে যখন দেখা যায়, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। সড়কের উপর থেকে সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনা দখল না সরিয়ে কেবল বক্তৃতায় নিরাপদ সড়ক চাওয়া আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। সম্প্রতি সড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে চার মাস বয়সী নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও আমরা ভুলিনি। এইসব হৃদয়বিদারক ঘটনার দায় কে নেবে? সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একাধিক স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সর্বাগ্রে প্রয়োজন সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ। লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে; এর দুর্বলতা ও অকার্যকারিতা এখন স্পষ্ট। বিআরটিএ’র কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ; তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। জেলার প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত ও টেকসইভাবে নির্মাণ করতে হবে। নির্দিষ্ট গতিসীমা, ওভারটেকিং নিরোধ এবং পরিকল্পিত ডিভাইডার স্থাপনের মতো পদক্ষেপে দ্রুত এগোতে হবে। পথচারী ও চালকদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং কার্যকর সমন্বয়। দুর্ঘটনা বন্ধে শুধু চালক নয়, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি - সবারই দায়িত্ব আছে। এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া মানে আরও মৃত্যু, আরও শোক। আমরা বলতে চাই, আর একটিও মৃত্যু যেন অবহেলার দায়ে না হয়। “সড়ক নিরাপদ হবে কবে?” - এই প্রশ্নের উত্তর আর দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না। এখনই চাই কঠোর সিদ্ধান্ত, কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মভিত্তিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স